ড্যানি ড্যানিয়েলস : অন্ধকার জগতের বাইরে আলোকিত যিনি

ড্যানি ড্যানিয়েলস, অন্ধকার জগতের অন্যতম এই তারকার ভক্তকুল গোটা বিশ্বজুড়েই। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অন্ধকার ছবির দুনিয়ায় সাড়া ফেলেন তার মহোনীয় সৌন্দর্যের দ্বারা। যা সময়ের সাথে বাড়িয়েছে তার জনপ্রিয়তা। তবে অন্ধকার দুনিয়ার বাইরেও সমানে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। নীল দুনিয়ার বাইরে তিনি একজন সফল চিত্রশিল্পী। সেখানেই শেষ নয়, তার শিল্পকর্ম থেকে অর্জিত টাকারা সবটাই তিনি দান করেন বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায়।

নীল দুনিয়ার বিখ্যাত এই তারকার, প্রাথমিক জীবন, অন্ধকার জীবনে প্রবেশ, অজানা আলোকিত জীবন নিয়েই অব্যয়ের আজকের আয়োজন।

ড্যানি ড্যানিয়েলস

প্রাথমিক জীবন

ড্যানি ড্যানিয়েলস নামে গোটা বিশ্বে পরিচিত হলেও, তার আসল নাম কিরা লি ওরস্যাগ। এটাই তাঁর আসল নাম। পর্দায় নাম, ড্যানি ড্যানিয়েলস। না, তিনি রুপালি জগতের অভিনয়শিল্প নন। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর, ক্যালিফর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে।

উদ্যোক্তা হতে হলে কি করবেন? দ্যা আনফেয়ার এডভান্টেজ (বুক রিভিউ)

চেক বংশভূত এই সুন্দরীর ছোটোবেলা থেকেই ঝোঁক ছিলো ছবি আঁকায়। ভর্তিও হয়েছিলেন আর্ট স্কুলে। স্যান ডিয়েগোর আর্ট ইন্সটিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়াতে ভর্তি হন ২০০৭ সালে। যদিও, ২০০৯ সালে গ্র্যাজুয়েশন শেষ না করেউ বের হয়ে আসতে হয় তাকে। মূলত দারিদ্র্যতাসহ নানাবিধ কারণে ছাড়তে হয় স্কুল। তাই আর এগোনো হয়ে ওঠেনি শখ নিয়ে। ১৫ বছর বয়সে তিনি একটি মেডিকেল ক্লিনিকেও কাজ নেন। জড়ান মডেলিং ও অভিনয় জগতেও।

নীল দুনিয়ায় প্রবেশ

অন্যদের মতো কিরা ওরস্যাগেও ভাবেননি নীল দুনিয়ায় আসার কথা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসই তাকে ঠেলে দেয় অন্ধকার দুনিয়ায়। কলেজের ফিস মেটানোর জন্যই নাম লেখান তিনি এডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষনীয় গল্প : হয়ত হ্যা হয়ত না থেকে কি শিক্ষা পেলেন চাষী?

অবশ্য এডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে তার পদার্পণই ঘুরিয়ে ভাগ্যের চাকা। অল্প দিনেই পেয়ে যান সাফল্য। কিরা লি ওরস্যাগর হয়ে ওঠেন ড্যানি ড্যানিয়েলস। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফলোয়ার ছাড়িয়ে যায় ১০মিলয়নেরও বেশি।

 

শিল্পী কিরা লি

ড্যানি ড্যানিয়েলসকেতো সবাই কম বেশি চেনেই। কিন্ত শিল্পী কিরা লি কে চেনেন কতজন? অন্ধকার দুনিয়ার তারকা হয়ে ওঠার পরও নিজের ভেতরের শিল্পী সত্তাটাকে হারাতে দেননি তিনি। এখানেই একই মূদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হয়ে গেছে ড্যানি ড্যানিয়েলস আর কিরা লি।

নিজের আঁকায় ফুটিয়ে তুলেছেন টাইপোগ্রাফি পয়েন্টলিজমের ব্যবহার। টাইপোগ্রাফি পয়েন্টলিজম হলো ক্যালিওগ্রাফির মাধ্যমে লিরিক্স বা শব্দ দিয়ে ছবি আঁকা। এমন অত্যাধুনিক আর্ট ফর্মে দারুণ সফলতার ছাপ ফেলেছেন কিরা লি। কুড়িয়েছেন শিল্প সমালোচক ও বিশ্বসেরা চিত্রশিল্পীদের প্রশাংসাও।

তাইতো ব্যস্ততা ও গ্ল্যামারজীবনের বাইরেও আঁকাআঁকির জন্য সময় রাখতে হয় তাকে। বিভিন্ন সময়ে তার আঁকা চিত্রগুলোর প্রদর্শনী হয়েছে লন্ডন, মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলস, স্যান ডিয়েগোতে, ক্যালিফোর্নিয়া।

চাইলে আপনি দেখতে বা কিনতে পারেন কিরা লি’র চোখ ধাঁধানো সব চিত্রকর্ম। তার চিত্রকর্ম দেখতে ক্লিক করুন এই লিংকে, https://www.kiraleeart.com/

একজন মানবিক ড্যানি ড্যানিয়েল

অন্ধকার জগতের পেশাগত জীবন আর শিল্পীসত্তার সাথে ড্যানি ড্যানিয়েলের রয়েছে এক মানবিক হৃদয়। চিত্রশিল্পী হিসেবে উপার্জিত অর্থের পুরোটাই তিনি ব্যয় করেন মানবতার পিছনে। চেষ্টা করেন, চিত্রকর্ম বিক্রির পাওয়া অর্থ দিয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির পাশে যতটা সম্ভব হয়।

মহামারী করোনা ভাইরাসের সময় তিনি বিক্রি করেছেন তার চিত্রকর্মগুলো। এসময় তার বিক্রি হওয়া চিত্রকর্মগুলোর সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান করেছেন করোনা মোকাবেলায় সেবাদানকারী চিকিৎসাকেন্দ্র গুলোতে।

কি হবে, যদি কেউ মৃত্যুর পূর্বে আপনাকে দায়ী করে সুইসাইড নোট লিখে যায়?

সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়া আর্ট গ্যালারিতে শেষ হয়েছে কিরা লি’র একক চিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে উপার্জিত সিংহভাগ অর্থই তিনি প্রদান করেন উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট অর্গানাইজেশন ও বিভিন্ন চ্যারিটেবল ট্রাস্টে।

ড্যানি ড্যানিয়েলস, অন্ধকার দুনিয়ায় তারকা হওয়ায় প্রায় নেটিজেনের সাথেই পরিচয় নেই কিরা লি’র। কিন্তু তার পেশাগত জীবন যেটাই হোক, তার শিল্পীসত্তা, এসবপর থেকেও বড় তার বিশাল হৃদয়। সভ্য সমাজের আলোর ছোঁয়া হয়তো লাগেনি ড্যানি ড্যানিয়েলেসের। কিন্তু এই সভ্য সমাজের আলোর দূত হয়ে উঠেছেন কিরা লি। শুভকামনা ড্যানি ড্যানিয়েলস কিংবা কিরা লি ওরস্যাগের জন্য।