পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব কে? যুক্তি বিতর্ক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

পৃথিবীর আদর্শ ব্যক্তি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব কে

মাইকেল হার্টের ১০০ মনিষীর জীবনী

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব কে? এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক মাইকেল হার্ট বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রভাবশালী মানব – মনীষীর তালিকা করে তাদের জীবনীর ওপর একটি বই বের করে ফেলেন। তিনি সেই বিখ্যাত বই “দ্যা হান্ড্রেড” অর্থাৎ “সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ মনিষীর জীবনী” এর তালিকায় প্রথম স্থানে রাখেন পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহা মানব হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ‘কে।

তিনি তার বইয়ে লিখেছেন, “হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর সাফল্যের মধ্যে জাগতিক ও ধর্মীয় উভয় দিকেরই প্রভাবের এক বিশেষ সংমিশ্রণ রয়েছে। এজন্য সংগতভাবেই তাঁকে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।” – ( বই: দ্যা হ্যান্ড্রেড )

১০০ মনিষীর জীবনী
Image: Facebook

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব কে?

মাইকেল হার্টের ঐ বইটি লিখার জন্য যতজন গবেষক ও স্কলার কাজ করেছিলেন সবাই “পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব কে?” এর উত্তর বের করার জন্য যাবতীয় গুণগুলো বিচার করার পর দেখতে পান হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে প্রথম স্থান থেকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগই নেই।

কারণ সকল ক্যাটাগরিতেই তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নিজের যোগ্যতা বলে এই অবস্থান অর্জন করে নিয়েছেন।

যিশু-কে কেনো পৃথিবীর আদর্শ ব্যক্তি বানাননি?

মাইকেল হার্ট বলেছিলেন আমি একজন খ্রিস্টান হিসেবে এই তালিকায় সবার ওপরে যীশু খ্রীষ্ট কে রাখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বেশ কয়েকটি যোগ্যতার অভাবের কারণে তাকে তালিকায় এক নম্বরে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ যীশু খ্রীষ্ট কোন রাষ্ট্রনায়ক, শাসক কিংবা যোদ্ধা ছিলেন না।

এমনকি যিশুখ্রিস্টের কোন পরিবার বা স্ত্রী সন্তানও ছিল না, সেজন্য মাইকেল হার্ট সহ তার সহযোগী-সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয় পৃথিবীর আদর্শ ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা:) এর সমকক্ষ আর কেউ নেই।

মাইকেল হার্ট আরো বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব কে বা সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আমি মোহাম্মদ (সাঃ) কে নির্বাচন করায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। কিন্তু সর্বকালের ইতিহাসে মোহাম্মদ (সাঃ) এমনই এক ব্যক্তি যিনি ধর্মীয় এবং ধর্মের বাইরের উভয় ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করেছেন।

জর্জ বার্ণার্ড ‘শ এর চোখে পৃথিবীর আদর্শ ব্যক্তি কে?

পৃথিবীর সেরা মানব কে
Image: Pinterest

বিখ্যাত লেখক জর্জ বার্নার্ড ‘শ পৃথিবীর সবচেয়ে মহান এই ব্যক্তি কে মানবতার ত্রাণকর্তা আখ্যা দিয়ে বলেন, “তিনি যদি আধুনিক পৃথিবীর শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করতেন, তাহলে তিনি অবশ্যই সকল সমস্যার সমাধান করতে সফল হতেন। সেই সাথে আসতো পৃথিবীর জন্য অতি জরুরী সুখ-শান্তি।”

এছাড়াও আরো বহু অমুসলিম পৃথিবীর সবচেয়ে মহান ব্যক্তি কে তার আদর্শের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বিগত প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে শত শত কোটি মুসলিম হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর শিক্ষা চর্চা করে আসছে।

mohanobir jiboni পৃথিবীর সেরা মানব কে

মহানবী সাঃ এর জীবনী

পৃথিবীর আদর্শ ব্যক্তি কে অড় হতে হয়েছে খুবই প্রতিকূল অবস্থায় থেকে। তিনি ছিলেন অক্ষর জ্ঞান শুন্য একজন অনাথ শিশু, যে কিনা মরুভূমির কঠোর পরিবেশে পিতা-মাতা ছাড়া বড় হয়েছেন। অথচ এক সময়ে এসে তিনিই তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন, বর্বর এবং অনগ্রসর সমাজকে উন্নত আর সভ্য এক সমাজে পরিণত করেছিলেন।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ অর্থাৎ পৃথিবীর আদর্শ ব্যক্তি কে বলা হয়; তিনিই একমাত্র দার্শনিক যে কিনা তার জীবদ্দশায় নিজের দর্শনকে সমাজের শতভাগ প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছিলেন। তিনি সারাজীবন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন।

পৃথিবীর আদর্শ মানুষ মুহাম্মদ (সাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম) মক্কা‘য় জন্মগ্রহণ করেন, এবং সেখানেই বড় হন। তার সততার কারণে তাকে তৎকালীন সমাজের লোকেরা তাকে “আল আমিন” অর্থাৎ বিশ্বাসী উপাধি দেয়।

কিন্তু তিনি যখন সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রকৃত শান্তির বাণী প্রচার করতে শুরু করেন তখন মক্কাবাসী ও তার নিজের আত্মীয়দের দ্বারা চরম নির্যাতিত হন, এরপর অন্যায়ভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে তাকে স্থায়ীভাবে মদিনায় বসবাস করতে শুরু করতে হয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে মহান ব্যক্তি কে
Madinah

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী থেকে রাজনৈতিক শিক্ষা

হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিচক্ষণতার ফলে যখন সে সময় ইসলামের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন বহু বছর পর মোহাম্মদ (সাঃ) বিজয়ীর বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন।

সেসময় তিনি ইতিহাসের অন্যান্য বিজয়ী রাজাদের মতো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি বরং যারা তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল, নির্মম অত্যাচার করেছিল, তার অনুসারীদেরকে বিনা কারণে হত্যা করেছিল, সেই বর্বর লোকদের উদ্দেশ্যে তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তার এ গুণগুলোই এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব কে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

মহানবী সাঃ এর জীবনী থেকে বোঝা যায় তিনি সবাইকে যে শিক্ষা দিতেন, তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তা নিজে বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে গিয়েছেন। তার মোহনীয় ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে সমগ্র আরব উপদ্বীপে শান্তি সাম্য ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ কে

রাষ্ট্র পরিচালনায় পৃথিবীর আদর্শ ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সাঃ

খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একজন সাধারণ বালক থেকে বিশাল সাম্রাজ্যের শাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত হন, কিন্তু তারপরও যার জীবনে বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বিশাল রাজ্যলাভের পরেও তিনি ঠিক আগে যেমন খাবার খেতেন, যেমন পোশাক পরতেন, ঠিক তেমনি চালিয়ে গেছেন।

তিনি কোন প্রাসাদ নির্মাণ করেন নি, অতিসাধারণ মাদুর বিছিয়ে মাটিতে ঘুমিয়েছেন। এমনকি এত বড় একজন শাসক তার জামা ছিড়ে গেলে নতুন জামা না কিনে নিজেই ছেড়া জামা সেলাই করে নিতেন।

কোর্ট - অব্যয় মিডিয়া ৪

শাসক হিসেবে হযরত মুহাম্মদ সাঃ

পৃথিবীর আদর্শ ব্যক্তি হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন প্রকৃত ন্যায় পরায়ন এবং ন্যায্য শাসক। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্য কোন শাসকের মতো তিনি তার রাজত্ব তার বংশধরদের কাছে হস্তান্তর করেন নি। তিনি বিচার করার সময় তার বন্ধু এবং আত্মীয়-স্বজনদের আলাদা নিয়ম করতেন না।
মহানবী সাঃ এর জীবনী ও তার দেয়া শিক্ষা অনুযায়ী সকলের জন্য আইন ছিল সমান।

পৃথিবীর আদর্শ ব্যক্তি অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো মৃত্যুর পরের জীবন-কে কেন্দ্র করে।

একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উপাসনা করা ছিল তার প্রধান বার্তা। সেই সাথে পৃথিবীর সকল ধরনের অন্যায় অত্যাচার সমূলে ধ্বংস করা ছিল তার লক্ষ্য।

তিনি মানবজাতির এমন একজন শিক্ষক ছিলেন, যিনি সব সময় উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দিয়ে গেছেন এবং নিজের জীবনকে সর্বোত্তম চরিত্রের আদর্শ হিসেবে রেখে গেছেন।

রাসুল (সাঃ) এর জীবনী ঘাটলে দেখা যায়, কোনদিন তার স্ত্রী, চাকর, বন্ধু, এমনকি শত্রুর গায়েও হাত তোলেন নি। শুধুমাত্র সেই শত্রুকেই তিনি মোকাবেলা করেছেন, যারা আল্লাহর হুকুম এবং তার বাণীর প্রতি সরাসরি বিরোধিতা করে তার উপর আক্রমণ করেছে।
আর এখানেই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) অন্য সকল নেতাদের থেকে আলাদা।

রাসুল (সাঃ) এর জীবনী ও নেতৃত্ব

সাধারণত কোন সম্রাট বা শাসক নিজে যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি অংশগ্রহণ করে না, কিন্তু রাসূল (সাঃ) ছিলেন একজন দক্ষ সমরনায়ক এবং অকুতোভয় বীর যোদ্ধা।

তিনি তার সৈন্যদলের সাথে থেকে সরাসরি শত্রুদের মাঝে গিয়ে যুদ্ধ করেছেন। একই সাথে আবার তিনি ছিলেন শান্ত, মার্জিত এবং সকলের প্রতি আন্তরিক।

মহানবীর জীবন কাহিনী সম্পর্কে জানলে বোঝা যায় একজন শাসকের যা যা দায়িত্ব থাকে দিনের বেলায় তিনি সে সকল কাজ করতেন। এছাড়া রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেন, বিচারকের দায়িত্ব পালন করতেন, অতিথিদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন, দরিদ্রদের খাবার দিতেন, অসুস্থ কে দেখতে যেতেন, নিজের ব্যক্তিগত কাজ নিজেই করতেন, একজন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে একজন শাসক যা যা কাজ করে তিনি তার সবই করেতেন।

মহানবী সাঃ এর জীবনী
Prayer

এরপর রাতের বেলা তিনি দীর্ঘ প্রার্থনায় মনোনিবেশ করতেন। প্রতিরাতে একটানা চার পাঁচ ঘন্টা নামাজে দাড়িয়ে থাকার জন্য তার পা ফুলে যেত। কিন্তু পরের দিন সকাল থেকে আবারও ইসলামী জীবন বিধান শিক্ষা দেওয়া পবিত্র কুরআন ব্যাখ্যা করা সহ; যাবতীয় কাজ নিরলসভাবে করে যেতেন।

পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন উৎকর্ষতার চূড়ান্ত উদাহরণ। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছাড়া ইতিহাসে এমন নজির আর দ্বিতীয়টি নেই। এজন্যই তো যখন কেউ জিজ্ঞেস করে, “পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব কে?” কিংবা “পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ কে?” তখন মুসলিম অমুসলিম সকল পন্ডিতেরাই এক স্বরে বলে ওঠেন – “হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।