লিব্রা কয়েন আনছে ফেসবুক, থমকে যাবে ডলারের দৌরাত্ম!

লিব্রা কয়েন নামে এক বিশেষ ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে আনতে চলেছে ফেসবুক। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ শোরগোল শুরু হয়েগেছে। ধারণা করা হচ্ছে এতে ক্রয় বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহৃত মাধ্যম ডলার হুমকির মুখে পড়তে পারে। কিন্তু কেনো?
তার আগে জানা যাক এর এই লিব্রার সূত্রপাত হলো কিভাবে? বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার একটি প্লাটফর্মে (ফেসবুক) সম্পূর্ণ এক ভিন্ন মুদ্রার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে গত ২০১৯ এর জুন’এই। বিজ্ঞপ্তিটি আসে স্বয়ং ফেসবুক কর্পোরেশন থেকেই।

 

Libra Cover Image

লিব্রা সংক্রান্ত হোয়াইট পেপার প্রকাশিত হবার পর থেকেই অর্থনীতিবিদদের মাঝে তুমুল আলোচনা শুরু হয় এর অবস্থান সম্পর্কে। লিব্রা কোন ধরণের ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো কাজ করবে?
আমরা অনেকেই বিটকয়েন সম্পর্কে জানি, ভার্চুয়াল এক ধরণের মুদ্রা এটি যার মূল্য গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ‘আপ-ডাউন’ করে। অনেক বিনিয়োগকারী বিটকয়েন কেনা-বেচা’কে স্থায়ী ব্যবসায় হিসেবেই গ্রহণ করেছেন ইতিমধ্যে। এমনও সময় গিয়েছে যখন বিটকয়েনের মূল্য এ মাসে ৩০০০ ডলার তো পরের মাসে তা ১১০০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। যে ব্যক্তি ৩০০০ ডলারের মূল্যের সময় কিছু পরমানে বিটকয়েন কিনে রেখেছিলো তার জন্য পরের মাসটি বেশ ভালোই লাভের মুখ দেখায়।


এখন কথা হচ্ছে বিটকয়েনের মতো লিব্রা’র দামও কি বাজার চাহিদার সাথে সমন্বয় করে কম বেশি হবে কি না তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হতে পারে?

উত্তর হচ্ছে, “না”। এর ব্যাখা ভালোভাবে জানতে হলে আগে আমরা জানবো

লিব্রা কিভাবে কাজ করবে?

ফেসবুক থেকে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে আপনার লিব্রা যেখানে জমা থাকবে তার নাম হবে ‘ক্যালিব্রা”। অর্থাৎ আপনার লিব্রা হচ্ছে টাকা ও আপনার ক্যালিব্রা টা হচ্ছে এক্ষেত্রে মানিব্যাগ।

আপনি যদি বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়া থেকে ৫০০ টাকার ৫০* (প্রতীকী অর্থে) লিব্রা কিনলেন, তা আপনার ক্যালিব্রা ওয়ালেটে জমা হয়েযাবে। এবং তা নিয়ে যদি আপনি অস্ট্রেলিয়াতেও যান তার পরিমান ঐ বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়ার ৫০০ টাকা সমপরিমাণ ৫০* লিব্রাই থাকবে। এই ওয়ালেট থেকে আপনি চাইলে অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা করতে পারবেন।

লিব্রার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটা আপনি যেকোনো দেশে ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি কানাডার কোনো স্ট্রীট ফুডের দোকানে বাংলাদেশী টাকার নোট ব্যবহার করতে পারবেননা, কিন্তু এরই সমাধান আনবে ফেসবুকের লিব্রা। অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে একটাই মুদ্রা কাজ করবে, যার নাম লিব্রা কয়েন। যে কয়েন কেও হাতে নিয়ে দেখতে পারবেনা।

তবে এ কয়েন যে কেবল ফেসবুকে কেনাকাটা বা সার্ভিস চার্জ হিসেবেই খরচ করা যাবে তা নয়। ফেসবুকের মাধ্যমে এটাও জানানো হয়েছে যে লিব্রা কিংবা ক্যালিব্রা এর দায়িত্ব ফেসবুকের পাশাপাশি ‘লিব্রা এসোসিয়েশন’ নামের একটি কোম্পানিকেও দেয়া হয়েছে।

ফেসবুক এ লিব্রা এসোসিয়েশন চাইলে লিব্রার ব্যবহার বিশ্বের যেকোনো ই-কমার্স সাইটেও ব্যবহার করতে পারবে।

এবার বলি, ফেসবুকের এই লিব্রা’র মূল্য কেনো ঘনঘন বাড়বে কমবে না! লিব্রা এসোসিয়েশন এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে রাখবে যেনো মার্কেটে চাহিদা ও যোগান হেরফের হলে তারা ঐ অর্থ দিয়ে মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাসের লাগাম টেনে ধরতে পারে। বিশ্ববাজারে ডলারের দাম কেনো রাতারাতি বাড়ে কমে না তার কারণও তাদের সরকারি পলিসি।

কতটুকু নিরাপদ এই লিব্রা কয়েন?

লিব্রা কয়েন ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা মিয়ে সর্বোচ্চটুকু দেয়ার অঙ্গীকার করেছে ফেসবুক প্রশাসন। লিব্রা ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ আলাদা একটি একাউন্ট খোলার ব্যপারে পরিকল্পনা করছে ফেসবুক৷ অর্থাৎ আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক করলেই যে, কেও আপনার আইডিতে থাকা লিব্রার মালিক হয়েযাবে তা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ছিনতাইকারী যদি আপনার সিমটি চুরি করে তার মানে এই না যে সে আপনার সিমে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট..) একাউন্টটির সকল টাকার মালিক হয়েগেলো।

তো লিব্রা কয়েন সম্পর্কে আপনার কি মত?