ল্যারি পেইজ: সবচেয়ে বাজে বন্ধু সম্পর্কে কি বললেন?

Larry Page & Sargey Brin

ল্যারি পেইজ, ১৯৭০ সনে জন্ম নেয়া এই তরুণ পালটে দিয়েছেন আজকের পৃথিবীর চিত্র। কখনো ভেবে দেখেছেন মনে হঠাৎ পাশের সিটে বসে থাকা ভদ্রলোক যখন কোনো উত্তর খোঁজ করেন তখন আপনি নিজ থেকেই বলে ওঠেন, “গুগোল করো”?
হ্যা, গুগোল আমাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি টুল বটেয়৷ তবে এটি এখন আমাদের নিকট এতটাই জনপ্রিয় হয়েগেছে যে “সার্চ ইঞ্জিন” শব্দটির বিকল্প হিসেবে আগেই “গুগোল” কে বিবেচনা করে বসি।

তবে গুগোল আমাদের নিকট যতটা এগিয়ে আছে, এর প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ কিন্তু ততটাই আড়ালে থাকেন। আজ আমরা তার জীবন সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা করব।

ল্যারি পেইজ

ফেসবুক ফলোয়ার
ফেসবুক ফলোয়ার

ল্যারি পেইজ‘এর জন্ম আমেরিকার মিশিগানে। উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সন্তান ল্যারি পেইজ ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন প্রযুক্তি ম্যাগাজিন ও পত্রিকা পড়তেন। তিনিও মায়ের মতো কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে গভীর পড়াশোনা করেন। তিনি এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, “আমি ছিলাম ক্ষুধার্ত পাঠক।”

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার পরিচয় হয় সার্গেই ব্রিন এর সাথে। ১৯৯৬ সালে তাদের একটি প্রোজেক্টে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়, দুই বন্ধু তাতে অংশও নেন। উক্ত প্রোজেক্টের লক্ষ্যবস্তু ছিলো ইন্টারনেটে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন সাইটের লিংকগুলোকে একটি ছাতার নিচে আনা ও গুরুত্ব অনুযায়ী একই বিষয়ের ওপর লিখা বাংলা কন্টেন্ট গুলোকে র‍্যাংক দেয়া।

র‍্যাংকিং

পরে এই প্রোজেক্ট থেকে শিক্ষা নিয়ে তা বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর জন্য ল্যারি পেজ ও সার্গে ব্রিন “ব্যাকরাব” নামে একটি সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেন, পরে এর নাম পালটে দেয়া হয় Google । যার গাণিতিক অর্থ হলো ১ এর পর ১০০ টি শূন্য।

আজ গুগোল প্রতিষ্ঠাতা ও সহ প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় থাকলেও শুরুতে গুগোল দিয়ে বাজিমাত করার উদ্দেশ্য কিন্তু তাদের ছিলোনা। দীর্ঘদিন তারা বিনামূল্যে পরিসেবা দিয়ে গেছেন তারা। এমনকি ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে তারা একাধিকবার তৎকালীন বহুল প্রচলিত Yahoo সার্চ ইঞ্জিনের কাছে মাত্র ১ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিক্রিরও প্রস্তাব দেয়। কিন্তু Yahoo তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়।

অতঃপর দমে না গিয়ে ল্যারি পেজ সিদ্ধান্ত নেয় তারা গুগোলের মূলধন বৃদ্ধির জন্য এই কোম্পানিকে শেয়ার মার্কেটে উত্থাপন করবেন। এই এক সিদ্ধান্তই উক্ত কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও সহ প্রতিষ্ঠাতা উভয়েই রাতারাতি কোটিপতি বনে যান।

ল্যারি পেজ বিলিওনার

ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গুগোলের অধীনে প্রায় চারশোর অধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন যার প্রত্যেকটিই আজ প্রতিষ্ঠিত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে তাদের তৈরি কোনো না কোনো সফটওয়্যার আমরা প্রতিদিনই ব্যবহার করছি।

ল্যারি পেইজ নিজের প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব আজ সুন্দর পিচাই’এর ওপর দিয়ে আয়েশে জীবন পার করছেন। তবে তিনি ব্যক্তিজীবনে তরুণ উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেন যেনো ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আরাম আয়েশকে পরিহার করেন। কারণ তার ভাষ্যমতে “ব্যবসায়ে আরাম আয়েশ হচ্ছে সবচেয়ে বাজে বন্ধু”

আরাম আয়েশ

ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিন তাদের জীবনের আরাম আয়েশ ত্যাগ করেছেন পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের জীবন যাত্রাকে সহজ করার জন্য। তেমনই তাদের জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় যৌবনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে যদি আপনি অন্য মানুষেরও উপকারে আসেন তবে তাই প্রকৃত সুখ বলে পরিগনিত হবে।