দোয়া গুলো: প্রতিদিনের জীবনে শান্তি ও সাফল্যের চাবিকাঠি

দিনের সেরা উক্তি - যে উক্তিগুলো আপনার মন ভালো করে দেবে
দিনের সেরা উক্তি - যে উক্তিগুলো আপনার মন ভালো করে দেবে

আপনি কি জানেন, একটা সহজ দোয়া কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে আপনার জীবনে? সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা অসংখ্য কাজ করি, কিন্তু অনেক সময় ভুলে যাই সৃষ্টিকর্তার স্মরণ। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া গুলো আরবি, উচ্চারণ এবং বাংলা অনুবাদসহ, যাতে আপনি সহজেই সেগুলো মনে রাখতে পারেন এবং জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন।

🔑 মূল বিন্দুসমূহ (Key Takeaways)

  • সকাল-সন্ধ্যার أذকার: দিন শুরু ও শেষ করার সেরা পদ্ধতি।
  • দৈনন্দিন কাজের দোয়া: খাওয়া, ঘুমানো, বের হওয়া-বাসা ফিরে আসার মন্ত্র।
  • কুরআনী দোয়া: রব্বানা দোয়া গুলোর ক্ষমতা অপরিসীম।
  • দুঃখ-কষ্টে আশ্রয়: করবলার দোয়া বা হযরত ইউনুস (আঃ)-র দোয়া পড়ে রক্ষা পেতে পারেন।
  • সঠিক উচ্চারণ: আরবি লেখার পাশাপাশি বাংলা লিপiantরণ থাকায় পাঠ করা সহজ।

কেন প্রতিদিন দোয়া পড়া অত্যন্ত জরুরি?

দোয়া হলো বান্দার তার রবের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। আল্লাহ পাক কুরআনে ইরশাদ করেছেন, “আমাকে ডাকো, আমি তোমার প্রার্থনা কবুল করব।” (সূরা গাফের: ৬০)। অতএব, দোয়া গুলো শুধু কুশল কামনা নয়, এটি একটি ইবাদত যা পুণ্য আনে এবং মানসিক শান্তি দেয়।

বেশিরভাগ মানুষ মুশকিলের সময় দোয়া করে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের শিখিয়েছেন, সুখের সময় যারা আল্লাহকে মনে রাখে, দুঃখের সময় আল্লাহ তাকে মনে রাখেন। তাই প্রতিদিনের রুটিনে নির্দিষ্ট মসনূন দোয়া গুলো অন্তর্ভুক্ত করা একটি মুমিনের জন্য ফরযের মতো গুরুত্বপূর্ণ।

সকাল ও সন্ধ্যার أذকার (Azkaar): দিনের শুরু ও শেষ

সকাল উঠে এবং সন্ধ্যা হলে আল্লাহর যিকর (স্মরণ) করা শয়তানের বাঁকা চোখ থেকে বাঁচায়। নিচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সময়ের أذকার দেওয়া হলো:

১. সকালের أذকার (সূর্যোদয়ের আগে থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত)

আরবি: أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ।

উচ্চারণ: আস্বাহনা व আস্বাহাল মুলকু লিল্লাহি, ওয়াল হামদু লিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ئین কাদীর।

বাংলা অর্থ: “সকাল হয়েছে এবং সার্বভৌমত্ব আল্লাহর। প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, এবং তিনি সকল বিষয়ে সক্ষম।”


আরবি: اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ।

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিকা আস্বাহনা ওয়া বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা নাহযা ওয়া বিকা নামুতু ওয়া ইলায়কান নুশূর।

বাংলা অর্থ: “ঐ আল্লাহ, তোমার করুণায় সকাল হয়েছে, তোমার করুণায় সন্ধ্যা হয়েছে, তোমার করুণায় আমরা জীবিত আছি, তোমার করুণায় মরব এবং তোমারই দিকে ফিরে যাব।”

২. সন্ধ্যার أذকার (সূর্যাস্তের আগে থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত)

আরবি: أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ।

উচ্চারণ: আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহি, ওয়াল হামদু লিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ئین কাদীর।

বাংলা অর্থ: “সন্ধ্যা হয়েছে এবং সার্বভৌমত্ব আল্লাহর। প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, এবং তিনি সকল বিষয়ে সক্ষম।”


আরবি: اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ।

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা আস্বাহনা, ওয়া বিকা নাহযা ওয়া বিকা নামুতু ওয়া ইলায়কাল মাসীর।

বাংলা অর্থ: “ঐ আল্লাহ, তোমার করুণায় সন্ধ্যা হয়েছে, তোমার করুণায় সকাল হবে, তোমার করুণায় আমরা জীবিত আছি, তোমার করুণায় মরব এবং তোমারই দিকে ফিরে যাব।”

দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত জরুরি মসনূন দোয়া গুলো

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের প্রতিটি ছোট-বড় কাজের জন্য দোয়া শিখিয়েছেন। এই দোয়া গুলো পড়লে কাজও হয় এবং ইবাদতও হয়। নিচে কিছু খুবই প্রয়োজনীয় দোয়া দেওয়া হলো:

খাওয়ার আগে ও পরের দোয়া

আরবি: بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ।

অর্থ: “আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং আল্লাহর बरকত (বরকত) کے সাথে।”


আরবি: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজী আত্যঅামানি হাজা ওয়া রাজাকানিহি মিন গায়রি হাওলিম মিন্নি ওয়া লা কুয়্যাতিন।

অর্থ: “সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এই খাবার দিয়েছেন এবং আমার কোনো পরিশ্রম বা শক্তি ছাড়াই রিজিক দান করেছেন।”

ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া

আরবি: بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি, তওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: “আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), আমি আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছি। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।”

এই দোয়া পড়ে বের হলে ফেরেশতা বলে, “তুমি হিদায়ত পেয়েছ, তোমার রক্ষা করা হয়েছে, শয়তান তোমার পথ ছাড়িয়ে দূরে হটেছে।” (তিরমিজি)

ঘরে ঢুকতে সময় দোয়া

আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্আলুکا খাইরাল মাওলিজি ওয়া খাইরাল মাখরিজি, বিসমিল্লাহি ওলাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খরাজনা, ওয়া আলা রাব্বিনা তওয়াক্কালনা।

অর্থ: “ঐ আল্লাহ, আমি তোমার কাছে ভালো প্রবেশ এবং ভালো প্রস্থানের প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামে ঢুকে যাচ্ছি, আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, এবং আমাদের রবের উপর আমরা ভরসা করেছি।”

শূন্য স্থানে (টয়লেট) ঢুকতে ও বের হওয়ার দোয়া

ঢুকতে: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ (আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খবায়েস) – “ঐ আল্লাহ, আমি তোমার শরণ চাই বুরা জিন ও জিন্নি থেকে।”

বের হওয়া: غُفْرَانَكَ (গুফরানাকা) – “তোমার ক্ষমা প্রার্থনা করছি (তোমার করুণার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি)।”

নতুন পোশাক পরার সময় দোয়া

আরবি: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا الثَّوْبَ وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজী কাসানী হাজাস সাওবা ওয়া রাজাকানিহি মিন গায়রি হাওলিম মিন্নি ওয়া লা কুয়্যাতিন।

অর্থ: “সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এই পোশাক পরিয়েছেন এবং আমার কোনো পরিশ্রম ছাড়াই রিজিক দান করেছেন।”

কুরআন মজীদ থেকে নির্বাচিত সেরা রব্বানা দোয়া গুলো

কুরআনে “রব্বানা” (ঐ আমাদের রব) শব্দ দিয়ে শুরু হওয়া দোয়া গুলো খুবই গরিমাময় এবং কবুলিয়তের পূর্ণ নিশ্চয়তা রয়েছে। নিচে ৫টি অত্যন্ত শক্তিশালী রব্বানা দোয়া দেওয়া হলো:

দিনের সেরা উক্তি - যে উক্তিগুলো আপনার মন ভালো করে দেবে

১. দুনিয়া ও আখেরাতের ভালোবাসার দোয়া (সূরা বাকারাঃ ২০১)

আরবি: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ দুনযা হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া কিনা আযাবান নার।

অর্থ: “ঐ আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতেও ভালো দিন, আখেরাতেও ভালো দিন এবং নারের আযাব থেকে আমাদের রক্ষা কর।”

২. ধৈর্য ও জয় প্রার্থনার দোয়া (সূরা বাকারাঃ ২৫০)

আরবি: رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাওঁ ওয়া সাব্বিত আকদামানা ওয়ানসুরনা আলাল কাওমিল কাফেরিন।

অর্থ: “ঐ আমাদের রব! আমাদের উপরে ধৈর্যের বর্ষণ কর, পা মজবুত কর এবং কাফের जमাতের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর।”

৩. ভুল-ভুল ও ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া (সূরা বাকারাঃ ২৮৬)

আরবি: رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا

উচ্চারণ: রব্বানা লা তুআখিজনা ইন নাসিনা আউ আখতানা।

অর্থ: “ঐ আমাদের রব! আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদের দण्ड না দাও।”

৪. মগফিরাত ও রহমতের দোয়া (সূরা মুমিনুনঃ ১১৮)

আরবি: رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: রব্বIGHফির ওয়ারহাম ওয়া আন্তা খাইরুর রাহিমিন।

অর্থ: “ঐ আমার রব! ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমি দয়ালুদের সেরা দয়ালু।”

৫. সन्तান ও পরিবার কল্যাণের দোয়া (সূরা ফুরকানঃ ৭৪)

আরবি: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ: রব্বানা হাবলানা মিন আজ্বাজিনা ওয়া জুররিয়াতিনা কুররাতা আইনিন ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকина ইমামা।

অর্থ: “ঐ আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী-পুত্রদের মধ্য থেকে আমাদের চোখের শীতলতা দাও এবং আমাদের মুত্তাকীদের ইমাম (নেতা) বানাও।”

মুশকিল ও চিন্তা দূর করার বিশেষ দোয়া (হযরত ইউনুস (আঃ)-র দোয়া)

যখন মানুষ ভয়ানক সংকটে পড়ে, তখন এই দোয়া পড়া সুন্নত এবং খুবই কার্যকর। হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে এই দোয়া পড়েছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে نجات (মুক্তি) দিয়েছিলেন।

আরবি: لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, সুবহানাকা, ইন্নী কুনতু মিনাজ জালিমিন।

বাংলা অর্থ: “তোমার সিবা কোনো ইলাহ নেই, তুমি পবিত্র, নিঃসন্দেহ আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম (আত্মত্যাগ করলাম)।”

হাদীসে আসে, এই দোয়া যে কেউ মুশকিলে পড়ে পড়ে, আল্লাহ তার মুশকিল দূর কর देते ہیں।

শবে বارات, শবে কদর ও রমজানের বিশেষ দোয়া

বিশেষ রাতগুলোর জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের নির্দিষ্ট দোয়া শিখিয়েছেন। শবে কদরের রাত আযায়ে হযরত আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, “ঐ আল্লাহর রসূল, আমি যদি শবে কদর পাই, তাহলে কী পড়ব?” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:

আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুവ্বুন তুহিব্বুল আফওা ফাফু anni।

বাংলা অর্থ: “ঐ আল্লাহ, নিঃসন্দেহ তুমি ক্ষমাকারী, তোমার ক্ষমা করা পছন্দ, তাই আমাকে ক্ষমা কর।”

এই দোয়া রমজানের শেষ ১০ দিন, শবে বارات এবং যেকোনো মুশকিল সময় পড়া খুবই ফজিলতময়।

দোয়া কবুল হওয়ার শর্তাবলী ও সেরা সময়</s

শুধু দোয়া পড়লেই হয় না, দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত মানতে হয়। আল্লাহ পাক সবার দোয়া কবুল করেন, কিন্তু কিছু শর্ত পূরণ করলে কবুলিয়ত আরো নিশ্চিত হয়।

দোয়া কবুল হওয়ার মূল শর্তাবলী:

  • হালাল রিজিক: হারাম উপায়ে উপার্জিত ধন দোয়ার কবুলিয়ত বাধা দেয়।
  • ইখলাস (নিরপেক্ষতা): শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দোয়া করব।
  • যাকীন (বিশ্বাস): দিলে বিশ্বাস রাখব যে আল্লাহ শুনছেন এবং দিয়েন।
  • ধৈর্য: দোয়া কবুল না হলেও বাধা না দিয়ে ধৈর্য ধারণ করব।
  • গুনাহ থেকে তওবা: গুনাহ দোয়ার বাধা, তওবা করলে বাধা দূর হয়।

দোয়া কবুল হওয়ার সেরা ৫ মুহূর্ত:

  1. তাহাজ্জুদ সময় (রাতের শেষ তৃতীয় অংশ): আল্লাহ তখন নিচের আসমানে নেমে আসেন এবং ডাকেন, “কে দোয়া করছে, আমি দেব?”
  2. আযান ও ইকামার মাঝপথ: এই সময় দোয়া রদ করা হয় না।
  3. সজদার অবস্থায়: বান্দা রবের সবচেয়ে নিকট সজদায় থাকে।
  4. জুমার দিন (আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত): এক ঘণ্টা রয়েছে যাতে দোয়া কবুল হয়।
  5. রোজার অবস্থায় ইফতারের মুহূর্তে: রোজাদারের দোয়া রদ হয় না।

দোয়া মনে রাখার সহজ টিপস

অনেকের শিকায়ত থাকে, “আমি দোয়া মনে রাখি না।” আসলে দোয়া মনে রাখা কোনো রটার বিষয় নয়, এটি অভ্যাসের বিষয়। নিচে কিছু কার্যকর টিপস দেওয়া হলো:

  • মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করুন: “Muslim Pro”, “Hisnul Muslim” বা “Dua & Azkar” অ্যাপগুলোতে নোটিফিকেশন অন করে রাখুন।
  • স্টিকি নোট লাগান: দরজার পাশে, বেডরুমে, ডাইনিং টেবিলে ছোট ছোট কার্ডে দোয়া লিখে লাগিয়ে রাখুন।
  • নমাজের সাথে যুক্ত করুন: প্রতিটি ফরয নমাজের পর সকাল-সন্ধ্যার أذকার পড়ার অভ্যাস করুন।
  • অর্থ বুঝে পড়ুন: অর্থ না বুঝলে মনে রাখা কঠিন। বাংলা অনুবাদ পড়ে অর্থ মনে রেখে আরবিতে পড়তে চেষ্টা করুন।
  • পরিবারের সাথে অনুশীলন: সকালে সपरিবার মিলে أذকার পড়লে স্মরণশক্তি বেড়ে এবং সওয়াবও বাড়ে।

নिष्कর্ষ

দোয়া হলো মুমিনের অস্ত্র। এই দোয়া গুলো শুধু কাগজের লিখা নয়, এটি হৃদয়ের ভাষা। আজ থেকে প্রতিদিন সকাল উঠে, খাওয়ার আগে, বের হওয়ার আগে, নমাজের পর—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আল্লাহর স্মরণে বিতান। আপনি দেখবেন, জীবনের প্রতিটি মুশকিল সহজ হচ্ছে, হৃদয়ে শান্তি নেমে আসছে। উপরের তালিকাটি সেভ করে রাখুন এবং ধীরে ধীরে সব গুলো মনে রাখার চেষ্টা করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ধারাবাহিকভাবে দোয়া করতে তওফিক দান করুন। আমিন।

প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন ১: সবচেয়ে শক্তিশালী দোয়া কোনটি?

কুরআন ও হাদীসে যেকোনো একক দোয়ার “সর্বশক্তিশালী” বলা হয়নি। তবে হযরত ইউনুস (আঃ)-র দোয়া (লা ইলাহা ইল্লা আন্তা…), সয়্যিদুল istifার, এবং কুরআনের রব্বানা দোয়া গুলো খুবই ফজিলতময় এবং মুশকিল দূর করতে কার্যকর। সবচেয়ে ভালো হলো আল্লাহর পছন্দ অনুযায়ী সঠিক 시간에 সঠিক দোয়া পড়া।

প্রশ্ন ২: দোয়া পড়ার সময় হাত উঠাতে হয় কি?

হাত উঠিয়ে দোয়া করা সুন্নত এবং মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দোয়ার সময় হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন। তবে হাত না উঠালেও দোয়া করা যায়, যেমন- নমাজের সজদায় বা চলাফিরা সময় মনে মনে দোয়া করা। হাত উঠালে বান্দার দরিদ্রতা ও প্রার্থনার ভাব বেড়ে যায়।

প্রশ্ন ৩: বাংলা ভাষায় দোয়া করা কি জائز?

হ্যাঁ, সম্পূর্ণ জائز। আল্লাহ সকল ভাষা জানে। নমাজের বাইরে যেকোনো সময় নিজের মাতৃভাষায় (বাংলায়) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা খুবই ভালো এবং গ্রহণযোগ্য। তবে মসনূন দোয়া গুলো (যেমন: খাওয়ার দোয়া, ঘুমের দোয়া) আরবিতে পড়া সুন্নত ও অধিক ফজিলতময়।

প্রশ্ন ৪: দোয়া কবুল না হলে কী করব?

দোয়া কবুল না হলেও নিরাশ হবেন না। আল্লাহ তিন ভাবে দোয়া কবুল করেন: ১) সে দাওয়া দেন, ২) সে বদলে অন্য ভালো কিছু দেন, ৩) সে আখেরাতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখেন, ৪) সে দুনিয়াতেও একটি বড় মুশকিল দূর করে দেন। তাই ধৈর্য ধরে দোয়া চালিয়ে যান, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ জানেন।

প্রশ্ন ৫: সকাল-সন্ধ্যার أذকার কতবার পড়ব?

বেশিরভাগ أذকার একবার পড়লেই সুন্নত পূরণ হয়। তবে কিছু أذকার (যেমন: কুল হুয়া अल্লাহু আহাদ, মুাওয়যাতাইন – সূরা ফালাক ও নাস) সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে পড়া 아프দল (শ্রেষ্ঠ)। সাধারণ أذকার একবার পড়লেও যথেষ্ট, কিন্তু বেশি পড়লে সওয়াব বেশি।